টপ ৫: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা সেরা ৫ টি বই

জীবন্ত কিংবদন্তী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্য কে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন তার অসামান্য সব সৃষ্টি কর্ম দিয়ে। তিনি লিখে চলেছেন বিভিন্ন বয়সের পাঠকের জন্য। তার উপন্যাস-গল্পে কখনো মেলে রহস্যের ছোঁয়া, আবার কল্পগল্প বা বিজ্ঞান কাহিনী হারিয়ে দেয় ভাবনার জোয়ারে! লেখক তুলে ধরেন তার অসামান্য চিন্তার প্রতিফলন। এই পর্বে জীবন্ত কিংবদন্তী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা সেরা ৫ টি বই নিয়ে আলোচনা করব।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা সেরা ৫ টি বই

দূরবীন

দূরবীন প্রচ্ছদ

দূরবীন প্রচ্ছদ

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা তিন প্রজন্মের কাহিনীর সংমিশ্রণ উপন্যাস হচ্ছে দূরবীন। শুরুতে প্রথম প্রজন্মের নায়ক হেমকান্ত। উপন্যাসে হেমকান্ত ও পুরুতকন্যা রঙ্গময়ীর গোপন প্রেম কাহিনী এবং আরো কিছু পারিবারিক কাহিনী নিয়েই উপন্যাসের প্রথম পর্যায় সাজানো হয়েছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের নায়ক কৃষ্ণকান্ত। পিতা হেমকান্তর সম্পূর্ণ বিপরীত এক চরিত্র কৃষ্ণকান্ত। স্বদেশী আন্দোলন, ব্রক্ষ্মচর্য গ্রহণ এসব নিয়েই উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্যায়। উপন্যাসের তৃতীয় প্রজন্মের নায়ক দিকভ্রান্ত, উদ্ধত, বেপরোয়া এক যুবক ধ্রুব। তার স্ত্রী রেমি। যার সাথে অদ্ভুত এক সম্পর্ক তার! কখনো ভালবাসা, কখনো অবহেলা, কখনোবা তীব্র আঘাতের। কিন্তু শত অবহেলা সহ্য করেই রেমি ভালবাসে ধ্রুবকে। পিতা কৃষ্ণকান্তের সাথে এক বিরূপ মনোভাব ধ্রুবর। সে তার পিতার মাঝে খুজেঁ পায় না সেই ব্রক্ষ্মচারী আর দেশের জন্য উৎসর্গ করা মন। আর ধ্রুবর এই না পাওয়া ব্যর্থতা দিয়েই শেষ হয় তৃতীয় প্রজন্মের কাহিনী!

শ্যাওলা

শ্যাওলা প্রচ্ছদ

শ্যাওলা প্রচ্ছদ

শ্যাওলা উপন্যাসের পটভূমিকা জাদবপুর। যেখানে দেখা যায় নিম্নমধ্যবিত্ত এবং উদ্বাস্তু মানুষজনের মধ্য থেকে অনিবার্যভাবে বেরিয়ে আসে এক যুবক মাস্তানের দল! যারা জীবনের ভোজসভা থেকে বিতাড়িত এবং সেইজন্যই হিংস্র, ইতর ও স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছে! নায়ক হিরন্ময় একসময় ছিল উগ্রপন্থী। একপর্যায়ে সেই হয়ে পড়ে সর্বতোভাবে উদাসীন, নির্বিকার এবং নিরাসক্ত। উগ্ররাজনীতি করা একটি ছেলে কীভাবে উদাস ও নির্বিক হয়ে উঠে সেই শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনী শ্যাওলা এক মহৎ উপন্যাসের সম্মান দেয়!

আরো পড়ুন:  টপ ৫: আহমদ ছফার লেখা সেরা ৫ টি বই

রূপ-মারীচ রহস্য

রূপ-মারীচ রহস্য প্রচ্ছদ

রূপ-মারীচ রহস্য প্রচ্ছদ

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা বিখ্যাত রূপ-মারীচ রহস্য উপন্যাসটির শুরু বিউটি কন্টেস্ট “মিস ইন্ডিয়া” নিয়ে। সব দিক থেকে সেরা মেয়ে অপূর্ব সৌন্দর্যের অধিকারিণী মেয়ে গার্গী মিত্র। তার মাথায় মুকুট ওঠার কথা থাকলেও অগাধ টাকার জন্য শেষ পর্যন্ত মুকুট ওঠে বিশাল ধনীর দুলালী নম্রতা শা’র মাথায়।ফ্যমিলি রক্ষণশীল হওয়ায় নম্রতার বিউটি কন্টেস্টে নামার কথা ছিল না। ফ্যামিলির বাইরে বিয়ে করায় নম্রতার পরিবারে কিছুটা ঝামেলা ছিল। এরপর উপন্যাসের এক পর্যায় ঘটতে থাকে যত সব অঘটন! একে একে খুন হয় সুজিতের স্ত্রী, সুজিত, বিজিত। কেন? কে আছে খুনের পেছনে?

অন্যদিকে অরুণিমা বকশী দুই পুরুষ ধরে আমেরিকায় সেটেলড। তার স্বামী সুব্রত। অনেক পরিশ্রমে নিজেকে মোটামুটি একটা পর্যায়ে নিয়ে যায় সে। সুব্রতের অধীনে কাজ করে মিহির।কোম্পানির মালিক নামে সুব্রত হলেও চালায় অরুনিমা। উপন্যাসে অরুনিমা ও মিহিরের মাঝে দীর্ঘ গোপন সম্পর্ক দেখা যায়! এদিকে সুব্রতের বোন জনা মিহিরের প্রেমে পড়ে। এক পর্যায়ে মিহির কলকাতায় চলে আসে। পিছু পিছু অরুণিমা। আসার পর পর খুন হন নিজ ফ্ল্যাটে । কে আছে খুনের পেছনে? উপন্যাসের দুটো ঘটনার ক্ষেত্রেই তদন্তে বার পরে লালাবাজারের গোয়েন্দা শবর দাসগুপ্তের উপর। তার অসম্ভব বুদ্ধির জোরে রহস্যের জট খুলতে থাকে ধীরে ধীরে। এবং শেষে লেখক এই রহস্য দুটোর সমাধান বের করে ইতিটানে!

গয়নার বাক্স

গয়নার বাক্স প্রচ্ছদ

গয়নার বাক্স প্রচ্ছদ

উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সোমলতা। সোমলতার স্বামীর নাম চকোর মিত্রচৌধুরী। চকো মিত্র জমিদার বংশের হওয়ায় এখন তাদের সংসার চলছে জমি আর গহনা বিক্রির টাকায়। কিন্তু আর কত দিন চলবে এভাবে! সোমলতা তার স্বামীকে চাকরি কিংবা ব্যবসার কথা বললে চকো মিত্র খুব একটা গুরুত্ব দেয়না বিষয়টাকে। উপন্যাসের একপর্যায়ে সোমলতা তার পিসির ঘরে উঁকি দিলে দেখতে পায় তার পিসি স্থির হয়ে বসে আছে এবং তার চোখ খোলা কিন্তু পলকহীন। একসময় সোমলতা আবিষ্কার করে পিসি আর বেঁচে নেই। হন্তদন্ত হয়ে যখন সে খবরটা সবাইকে দিতে যাচ্ছিল ঠিক তখনই মৃত পিসি কথা বলে উঠে। এই মৃত পিসিই সোমলতাকে তার গয়নার বাক্স দিয়ে যায় ও নিজের ঘরে লুকিয়ে রাখতে বলে। একশ ভরি সোনা ছিল বাক্সটাতে। এই গয়নার বাক্সই কি পাল্টে দিবে সোমলতা ও সোমলতার শ্বশুর বাড়ীর জীবনযাত্রা? এই প্রশ্ন রেখেই এগুতে থাকে গয়নার বাক্স উপন্যাসের বাকি অংশ।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সেরা ৫ বই

পাতালঘর

পাতালঘর প্রচ্ছদ

পাতালঘর প্রচ্ছদ

গল্পের শুরু প্রায় দেড়শ বছর আগে। যখন রঘু ডাকাতের দল গ্রাম-বাংলায় দাপিয়ে রাজত্ব করত! সেই কোম্পানির আমল! চারিদিকে নানা নৈরাজ্য! তারই মধ্যে নিশ্চিন্তিপুরে বসে একমনে বিজ্ঞান-সাধনায় ঘোর হয়ে আছেন অঘোর সেন। তিনি যোগাযোগ করে ফেলেছেন ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের সঙ্গেও! একি সাথে সে আবিষ্কার করে ফেলেছেন এমন এক যন্ত্র যার সুর মানুষকে দেড়শ বছর পর্যন্তও ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারে। এমন অবস্থায় নেপচা গ্রহ থেকে এসে ভিক বড় জ্বালাতন আরম্ভ করে এবং তার বাড়াবাড়িতে বিরক্ত হয়ে অঘোর তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেন। এরপর একসময় তার মৃত্যু হলে সবাই ভুলে যায় সেই কথা। এরপর্যায়ে বিজ্ঞানী ভূতনাথ নন্দীর হাতে আসে অঘোর সেনের ডায়েরি। সেখান থেকে তিনি জানতে পারেন অঘোরের আবিষ্কার করা যন্ত্রটির কথা। সাংবাদিক বৈঠকে সে বৃত্তান্ত প্রকাশ করতেই ভূতনাথের পেছনে পড়ে যায় অন্ধকার জগতের রানি বেগম ও তার দলবল। এখানেই শেষ নয়! তারপর ঘটতে থাকে আরো যত বিচিত্র সব ঘটনা। ভিন গ্রহের প্রাণীর জেগে উঠার গল্প নিয়ে শেষ অবধি প্রবাহিত হতে থাকে আধুনিক এই রূপকথা!

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap