টপ ৫: সুকুমার রায়ের সেরা ৫ টি বই

বিশ্বসাহিত্যে সর্বযুগের সেরা ননসেন্স ধরণের ব্যঙ্গাত্বক শিশুসাহিত্যের অন্যতম লেখক সুকুমার রায়। তার রচনার হাস্য রসাত্বকতা বাংলা সাহিত্যে বিরল। তার লেখা অধিকাংশ গ্রন্থাবলি মৃত্যু পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হলেও অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠে। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অসংখ্য। মৃত্যুর বহু বছর পরও তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যের একজন। আজকের পর্বে জনপ্রিয় এই লেখক সুকুমার রায়ের সেরা ৫ টি বই নিয়ে আলোচনা করব।

সুকুমার রায়ের সেরা ৫ টি বই

আবোল তাবোল

আবোল তাবোল

সুকুমার রায়ের সেরা ৫ টি বই এর লিস্টে প্রথমেই আছে আবোল তাবোল। এটি ছড়াকার সুকুমার রায়ের লেখা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নন সেন্স ছড়া সমগ্র। এই সংকলনে ছড়ার সংখ্যা মোট ৫০ টি, যার মধ্য থেকে ৭ টি ছড়া ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়েছে।

এই সংকলনের উল্লেখ্যযোগ্য ছড়া গুলো হলো অবাক কান্ড, আবোল তাবোল, আহ্লাদী, একুশে আইন, কাঠবুড়ো, কাতুকুতু বুড়ো, কাঁদুনে, কি মুস্কিল, কিম্ভূত, কুম্‌ড়োপটাশ, কৈফিয়ত, খিচুড়ি, খুড়োর কল, গন্ধ বিচার, গল্প বলা, গানের গুঁতো, গোঁফ চুরি, চোর ধরা, ছায়াবাজি, ট্যাঁশ্ গরু, ঠিকানা, ডানপিটে, দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম, ন্যাড়া বেলতলায় যায় ক’বার, নারদ নারদ, নোট বই, প্যাঁচা আর প্যাঁচানি, পালোয়ান, ফস্‌কে গেল, বাবুরাম সাপুড়ে, বিজ্ঞান শিক্ষা, বুঝিয়ে বলা, বুড়ির বাড়ি, বোম্বাগড়ের রাজা, ভয় পেয়ো না, ভাল রে ভাল, ভূতুড়ে খেলা, রামগরুড়ের ছানা, লড়াই-ক্ষ্যাপা, শব্দকল্পদ্রুম ইত্যাদি।

পাগলা দাশু

পাগলা দাশু

সুকুমার রায়ের সেরা ৫ টি বই এর লিস্টে পরবর্তী স্থানে আছে পাগলা দাশু। এটি সুকুমার রায়ের প্রথম গল্প সংকলন। মৃত্যুর ১৭ বছর পর, ১৯৪০ সালে এই গল্প সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এই সংকলনের ভূমিকা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি লিখেছিলেন, “সুকুমারের লেখনী থেকে যে অবিমিশ্র হাস্যরসের উৎসধারা বাংলা সাহিত্যকে অভিষিক্ত করেছে, তা অতুলনীয়। তাঁর সুনিপুণ ছন্দের বিচিত্র ও স্বচ্ছন্দ গতি, তাঁর ভাব-সমাবেশের অভাবনীয় অসংলগ্নতা পদে পদে চমৎকৃতি আনে। তাঁর স্বভাবের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির গাম্ভীর্য ছিল, সেই জন্যেই তিনি তার বৈপরীত্য এমন খেলাচ্ছলে দেখাতে পেরেছিলেন। বঙ্গসাহিত্যে ব্যঙ্গরসিকতার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত আরো কয়েকটি দেখা গিয়েছে। তাঁর ঠিক সমশ্রেণীর রচনা দেখা যায় না।”

হ য ব র ল

হ য ব র ল

সুকুমার রায়ের সেরা ৫ টি বই এর লিস্টে ৩য় স্থানে আছে হ য ব র ল। এটিও বাংলা সাহিত্যের ননসেন্স ধারার একটি শ্রেষ্ঠরচনা। রচনাটির শৈল্পিক সৌন্দর্য ও তাৎপর্য বোঝাতে গিয়ে অনেকে একে এলিস ইন দ্য ওয়ান্ডারল্যান্ডের সাথে তুলনা করেন। এই সংকলনটি ১৯২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ও ২০০৫ সালে প্রথম ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

এই রম্য গল্পটি শুরু হয় একটি বাচ্চা ছেলের ঘুম থেকে উঠার মধ্যে দিয়ে। গরমকালে ঘাম মোছবার জন্য রুমালটা তুলতে গিয়ে সে দেখে তার রুমাল একটা বেড়াল হয়ে গেছে। বেড়ালটার সাথে সে গল্প করতে শুরু করে এবং বুঝতে পারে বেড়ালটা উল্টোপাল্টা কথা বলছে। পরে ছেলেটার দেখা হয় কাকেশ্বর নামক দাঁড়কাক সাথে যে বিদঘুটে হিসাব করে। এরপরে একে একে উদো আর বুদো, হিজিবিজবিজ, ব্যাকরণ শিং, নেড়া, সজারু, প্যাঁচা ইত্যাদি আরও অনেক চরিত্রের অনুপ্রবেশ ঘটে আর বাড়তে থাকে বিশৃঙ্খলা। গল্পের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে বাচ্চা ছেলেটির ঘুম থেকে উঠার মধ্যে দিয়ে।

ঝালাপালা

ঝালাপালা

সুকুমার রায়ের সেরা ৫ টি বই এর লিস্টে পরবর্তী স্থানে আছে ঝালাপালা। এটি সুকুমার রায়ের বিখ্যাত একটি নাটক। নাটকের পটভূমি গ্রামের এক পাঠশালা। পাঠশালার পন্ডিত মশাই ও তার ছাত্রদের মধ্যে শিক্ষা দানের বিষয়টিকে সুকুমার রায় রম্য নাটকে রূপ দিয়েছে। নাটকটিতে দেখা যায় পন্ডিত মশাইয়ের দুই ছাত্র ঘটারাম ও কেষ্টা পাড়ার গানের মজলিসে যাওয়ার জন্য পন্ডিত মশাইয়ের কাছে ছুটি প্রার্থনা করতে। কিন্তু পন্ডিত মশাই তাদের ছুটি দিতে নারাজ। লাটসাহেব এলেও পন্ডিত মশাইয়ের কাছে ছুটি নাই, এখন পড়তে হবে।

কেষ্টা আর ঘটারাম পড়তে থাকলে পন্ডিত মশাই নিদ্রায় চলে যায়। নিদ্রার মাঝে কেষ্টা বলে, “পণ্ডিতমশাই, এই জায়গাটা বুঝতে পারছি না ।” পন্ডিত মশাই ঘুমের ঘোরে পড়া বুঝিয়ে দিতে থাকে। এরপর ঘটিরাম অদ্ভুত অঙ্ক নিয়ে হাজির হয় যার কোনো কুল কিনারা সৃষ্টিকরা অসম্ভব। এরপর এইভাবেই চলতে থাকে নাটকের পরের ঘটনা। হাস্য রসাত্মক এই নাটকটি শেষে জুড়ির গানের মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়।

অবাক জলপান

অবাক জলপান

সুকুমার রায়ের সেরা ৫ টি বই এর লিস্টে পরবর্তী স্থানে আছে অবাক জলপান। এটি সুকুমার রায়ের লেখা বিখ্যাত আরেকটি রম্য গল্প। এই গল্পের প্রধান চরিত্র এক পথিক। গল্পের শুরুতে দেখা যায় পূর্ব পাড়া থেকে সেই পথিক হেটে প্রায় পাঁচ ক্রোশ দূরে এক গ্রামে এসে উপস্থিত হতে। মাথার উপর প্রচন্ড রোদ, গলা শুকিয়ে প্রায় কাঠ। বড্ড তেষ্টা পেয়েছে পথিকের। তাই পথিক একটু জলের খোঁজ করতে শুরু করে।

রাস্তায় প্রথমেই একজন ফল বিক্রেতার সাথে দেখা হলো। পথিক তাকে জিজ্ঞেস করলো, দাদা একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন? কিন্তু ব্যটা মূর্খ শুনলো জলপাই। কি কান্ডটাই না ঘটে গেলো পথিকের সাথে। এরপর এল চৌদ্দ গুষ্ঠির জল, এলো জলের প্রকারভেদ এলো জল নিয়ে মিল, এল জলের কবিতা এবং সবশেষে এলো জলের রাসায়নিক ব্যাখ্যা। কিন্তু পথিকের তৃষ্ণা আর মেটেনা।

1 Response

  1. GanerKotha says:

    thank you for the list 😁

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *