টপ ৫: হুমায়ূন আজাদের সেরা ৫ টি বই

বাংলাদেশের প্রধান প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ূন আজাদ যিনি ধর্ম, মৌলবাদ, সংস্কারবিরোধিতা, নিরাবরণ যৌনতা, নারীবাদ ও রাজনীতি বিষয়ে বিতর্কিত ও সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য ৮০ এর দশক থেকে ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার সাহিত্য কর্মের মাঝে তুলে ধরেছেন ধর্মীয় গোরামী থেকে উগ্র ধর্মান্ধতা, তিনি বলেছেন লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার কথা। বহুমাত্রিক মননশীল এই লেখকের বইয়ের সংখ্যা ৬০ টি। এদের মধ্যে কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস, সমালোচনা গ্রন্থ, কিশোর সাহিত্য এবং ভাষা বিজ্ঞান উল্লেখ্যযোগ্য। এই পর্বে বিভিন্ন সময় জনপ্রিয় হওয়া হুমায়ূন আজাদের সেরা ৫ টি বই নিয়ে আলোচনা করব।

হুমায়ূন আজাদের সেরা ৫ টি বই

লাল নীল দীপাবলি

লাল নীল দীপাবলি

লাল নীল দীপাবলি

লাল নীল দীপাবলি হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের জীবনী। এটি হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কিত কিশোরসাহিত্য গ্রন্থ। ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে মোট ছাব্বিশটি প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রবন্ধগুলো হলো: লাল নীল দীপাবলি, বাঙালি বাঙলা বাঙলাদেশ, বাঙলা সাহিত্যের তিন যুগ, প্রথম প্রদীপ: চর্যাপদ, অন্ধকারে দেড়শ বছর, প্রদীপ জ্বললো আবার: মঙ্গলকাব্য, চণ্ডীমঙ্গলের সোনালি গল্প. মনসামঙ্গলের নীল দুঃখ, কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র, উজ্জ্বলতম আলো: বৈষ্ণব পদাবলি, বিদ্যাপতি, চৈতন্য ও বৈষ্ণবজীবনী, দেবতার মতো দুজন এবং কয়েকজন অনুবাদক, ভিন্ন প্রদীপ: মুসলমান কবিরা, আলাওল, লোকসাহিত্য: বুকের বাঁশরি, দ্বিতীয় অন্ধকার, অভিনব আলোর ঝলক, গদ্য: নতুন সম্রাট, গদ্যের জনক ও প্রধান পুরুষেরা, কবিতা: অন্তর হ’তে অহরি বচন, উপন্যাস: মানুষের মহাকাব্য, নাটক: জীবনের দ্বন্দ্ব, রবীন্দ্রনাথ: প্রতিদিনের সূর্য, বিশশতকের আলো: আধুনিকতা। এই প্রবন্ধ গুলোর মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন বাংলা সাহিত্যের বহু বছরের পর্যায়ক্রমে বিবর্তিত হওয়া ইতিহাস।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সেরা ৫ বই

ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল

ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল

ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল

ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল উপন্যাসের হাত ধরে হুমায়ূন আজাদের ঔপনাসিক জীবনে হাতে খড়ি। তার এই বইটি ১৯৯৪ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী প্রথম প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদ। তার চোখ দিয়েই মূলত পুরো উপন্যাসটি লেখা হয়েছে। উপন্যাসের পটভূমি বাংলাদেশে সামরিক শাসন জারির সময়। রাশেদ দেখতে পায় ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল জুড়ে নেমে এসেছে অন্ধকার, ঘোষিত হয়েছে সামরিক শাসন। রাশেদের বাল্যকালে আর যৌবন নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো পাকিস্থানি সামরিক গ্রাসে, এখন তার উত্তরাধিকারীর জীবনও পড়ে সামরিক গ্রাসে। রাশেদ জেগে ওঠে এত দূষিত বাস্তবতার মধ্যে, দিকে দিকে সে বুটের শব্দ শুনতে পায়, সে শুনতে পায় একনায়কের চাবুকের শব্দে নাচছে তার মাতৃভূমি, দেখতে পায় তার আত্মার মতো প্রিয় দেশটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লেখক হুমায়ূন আজাদ এই উপন্যাস দ্বারা মূলত সামরিক শাসনের ভয়ানকতা তুলে ধরেছেন।

সব কিছু ভেঙে পড়ে

সব কিছু ভেঙে পড়ে

সব কিছু ভেঙে পড়ে

সব কিছু ভেঙে পড়ে হুমায়ূন আজাদের লেখা জনপ্রিয় আরেকটি উপন্যাস। এটি ১৯৯৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি প্রধান চরিত্র মাহবুর। যিনি পেশায় একজন সেতু প্রকৌশলী। কাঠামো নির্মাণ পেশার অভিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের পরষ্পরিক মিলবিন্যাস খুঁজে পান মাহবুব। যার ফলে জাগতিক বস্তুগত, অবস্তুগত এবং মনস্তাত্তিক বিষয়াদী তার কাছে সমার্থক হয়ে উঠতে শুরু করে। তার দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের সম্পর্ক একটি কাঠামো, যার কাজ ভার বহন করা এবং একসময় কাঠামোটি ভার বহন করতে না পারার ব্যর্থতায় ভেঙে পরে। আজাদ দেখিয়েছেন সম্পর্কের বাস্তবতা, যেখানে নারী-পুরুষ পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে এবং পরিণতিতে তাদের আকর্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নারী-পুরুষের মধ্যেকার শারীরিক ও হৃদয়সম্পর্কের নানা আবর্তন এবং পরিণতি কাহিনীকারে তিনি প্রকাশ করেছে এই উপন্যাসে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: জহির রায়হানের লেখা সেরা ৫ টি বই

পাক সার জমিন সাদ বাদ

পাক সার জমিন সাদ বাদ

পাক সার জমিন সাদ বাদ

১৯৬০-এর দশকে বাংলাদেশ ছিলো পাকিস্তানের উপনিবেশ। তখন একটি উর্দুগানে নিরন্তন ঝালাপাল হতো বাংলা ভাষা প্রেমিদের কান। যার প্রথম পংক্তি ছিলো ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’। সামরিক শাসন আর উর্দু জাতীয় সঙ্গীতে বাংলাদেশে ছিলো পীড়িত। ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা সৃষ্টি করি একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল অন্ধকারের শক্তিরাশি আমাদের নিয়ে যেতে চেয়েছে মধ্যযুগের দিকে। মৌলবাদ এখন দিকে দিকে হিংস্ররূপ নিয়ে দেখা দিচ্ছে; ত্রাসে ও সন্ত্রাসে দেশকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তারই এক ভয়াবহ ও শিল্পিত চিত্র রচিত্র হয়েছে হুমায়ুন আজাদের পাক সার জমিন সাদ বাদ উপন্যাসে। উপন্যাসটি প্রথম বেরোয় দৈনিক ইত্তেফাক ২০০৩ এর ঈদ সংখ্যা। বেরোনোর পর মৌলবাদীরা এর বিরুদ্ধে মেতে উঠে।

নারী

নারী

নারী

নারী হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি নারীবাদী রচনা। বইটি ১৯৯৫ সালের ১৯ শে নভেম্বর বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রায় সাড়ে চার বছর পরে ২০০০ সালের ৭ মার্চ হাইকোট বইটির নিষিদ্ধকরণ আদেশ বাতিল করে। তারপর থেকে বইটি পুনরায় প্রকাশিত হয়ে আসছে। এই উপন্যাসটিতে নারীবাদী কাঠামোতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কেউ নারী হয়ে জন্ম নেয় না, পুরুষতন্ত্র একটা মানুষকে নারী করে তুলে। ইহুদি-খ্রীষ্টান-হিন্দু-মুসলমানের চোখে নারী এক অবাধ্য বক্রহার যে স্বর্গে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে; নিকৃষ্ট! লেখক এখানে বর্ণনা করেছেন নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক রাজনীতির রুপ, রুশো, রাসকিন, ফ্রয়েড, রবীন্দ্রনাথের নারীবিরোধীতার মিল এবং রাজা রামমোহন রায় এবং বিদ্যসাগরের নারীমুক্তির তাত্ত্বিক ও বাস্তব কর্মরাশি লেখক এই বইটিতে তুলে ধরেছেন।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *