কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা রোগ: রোগের লক্ষণ, করণীয় ও পরিত্রাণের উপায়

কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা রোগে ভুগেনি এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা। খুব সহজেই ছোঁয়াচে এই রোগ ঘরের কারো হলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। খুব মারাত্মক অসুখ না হলেও অনেক সময় অবহেলা করলে সেটা থেকে অমূল্য সম্পদ চোখের কোন সমূহ ক্ষতি হতে পারে। আসুন জেনে নেয়া যাক এই কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) বা চোখ উঠা রোগ সম্পর্কে।

কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা রোগে কি হয়

ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া এই দুধরণের জীবাণু দিয়ে চোখ উঠা রোগ হতে পারে। কিছু কিছু অ্যামিবা দিয়েও এই রোগ হতে পারে। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে হওয়া কনজাংটিভাইটিসে চোখে ময়লা কম হয় এবং নিজে নিজে সেরে যেতে পারে আবার কপ্লিকেশন ও হতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাবে হওয়া এই রোগে চোখে প্রচুর ময়লা হয়ে থাকে এবং চোখে মেমব্রেন বা এক ধরণের ঝিল্লী তৈরি পর্যন্ত হতে পারে যা থেকে রক্তপাত হতে পারে (সাধারণত শিশুদের বেশি হয়)।

কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা রোগের লক্ষণসমূহ

  • ব্যাথা বিহীন চোখ লাল হওয়া।
  • চোখে খচখচ অনুভব করা (চোখে বালি পরেছে এমন মনেহয়)।
  • চোখ দিয়ে পানি পরা (আঠাল বা স্বাভাবিকপানি)।
  • সকালে ঘুম থেকে উঠলে চোখ আঠা লেগে থাকা।
  • চোখের কোণে ময়লা জমে থাকে।

কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা রোগ হলে করণীয়

  • চোখে খচখচ করলে বা চুলকালে খালি হাতে চোখ না চুল্কিয়ে একটা পরিষ্কার ছোট কাপড় দিয়ে চোখ মুছতে হবে।
  • পরিষ্কার খাবার পানি দিয়ে চোখ ধুতে হবে।
  • এক চোখে কনজাংটিভাইটিস হলে সেই চোখ মুছলে পর খেয়াল রাখতে হবে যাতে অন্য চোখে স্পর্শ না করা হয়।
  • রোদে বের হলে কিংবা সংক্রমণ রোধ করার জন্য চোখে কালো চশমা ব্যবহার করতে হবে।
  • অবশ্যই একজন বিএমডিসি রেজিস্টার্ড চোখের ডাক্তার দেখিয়ে ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশন অনুযায়ী ড্রপ ও মলম ব্যবহার করতে হবে।
আরো পড়ুন:  কন্টাক্ট লেন্স: কন্টাক্ট লেন্সের নানাবিধ ব্যবহার এবং সাবধানতা

কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা থেকে পরিত্রাণের উপায়

  • যেহেতু রোগটা ছোঁয়াচে তাই কারো কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) হয়েছে দেখলে তার থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলাই উত্তম।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিস পত্র ধরা বা নাড়াচাড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • বাসায় কারো কনজাংটিভাইটিস হয়ে থাকলে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিজের সন্দেহ হলে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা শুরু করে দেয়া যেতে পারে।

কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা থেকে কি কি জটিলতা হতে পারে?

  • ঠিক মত চিকিৎসা না করা হলে ক্যারাটোকনজাংটিভাইটিস বা চোখের কর্নিয়ার প্রদাহ হতে পারে যা সারতে লম্বা সময় লাগে এবং দৃষ্টি ঝাপসা থাকতে পারে।
  • কিছু কিছু কনজাংটিভাইটিস এর ক্ষেত্রে চোখের পাতার ভিতরে মেমব্রেন বা ঝিল্লী তৈরি হতে পারে যা অনেক ব্যাথাযুক্ত এবং মাঝে মাঝে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। এতে চিন্তিত না হয়ে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

ভার্নাল কনজাংটিভাইটিস

নির্দিষ্ট কোন ঋতু বা কোন ধরণের এলার্জেন এর প্রভাবে অনেকের দেখা যায় চোখ লাল হয়ে যায় এবং পানি পরে ও চুলকায়। এটাকে স্বাভাবিক চোখ উঠার সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। এটা ব্যক্তি বিশেষের আলাদা রকমের একটা অসুখ যা এলার্জি হয় এমন জিনিস বা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে থাকে। অনেক বাচ্চাদের এই রোগটা হয়ে থাকে এবং ১৩-১৪ বছর বয়স হলে সেরে যায়। আর বড়দের এই অসুখ হলে নিয়মিত চোখের ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ সেবন করতে হবে। এক্ষেত্রে ডাক্তাররা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ দিবেন যা সাবধানতার সাথে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ডোজে ব্যবহার করে একটা নির্দিষ্ট সময় পর বন্ধ করে দিতে হবে নতুবা তা থেকে চোখের প্রেশার বৃদ্ধি, ছানি পড়া সহ নানান কমপ্লিকেশন হতে পারে।

কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) একটা কমন অসুখ। একটু সাবধান থাকলে আর সচেতনতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিলে সহজেই এই রোগ বা তার জটিলতা থেকে আমরা দূরে থাকতে-ই পারি। তাই আমাদের সবার উচিত এই রোগ সম্পর্কে নিজে জানা ও অন্যকে জানানো।

ডাঃ ফাহিম হায়দার খান
এমবিবিএস (ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)
মেডিক্যাল অফিসার, বাংলাদেশ আই হসপিটাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *