কন্টাক্ট লেন্স: কন্টাক্ট লেন্সের নানাবিধ ব্যবহার এবং সাবধানতা

স্টাইল বা ফ্যাশন বলেন কিংবা প্রয়োজনে, আমরা কত কিছুই না ব্যবহার করি!! সেরকম একটা জিনিস হচ্ছে কন্টাক্ট লেন্স (Contact lens)। মেয়েদের মধ্যে বহুল প্রচলিত আর আজকাল ছেলেদের মধ্যে-ও আগ্রহ বাড়ছে এই কন্টাক্ট লেন্সের প্রতি। ১৯৪৯ সালে প্রথম কন্টাক্ট লেন্স বাজারে আসে। এরপর নানান রকম পরিমার্জন আর পরিবর্তনের পর এখন আমরা সবচেয়ে আধুনিক কন্টাক্ট লেন্স পেয়েছি। আর ক্রমাগত-ই চলছে এর আরো উন্নয়ন।

কন্টাক্ট লেন্সের নানাবিধ ব্যবহার

চশমার বিকল্প হিসেবে কন্টাক্ট লেন্স: লম্বা সময়ে চশমা ব্যপারটাতে যারা অভ্যস্ত আছেন তাদের মধ্যে অনেকের মনেই মাঝে মাঝে উঁকি দেয় চশমা ছাড়া একটা জীবনের। যাদের চশমার পাওয়ার কমপ্লিকেটেড না তারা চাইলেই নাকের ডগায় বসে থাকা চশমাটাকে বিদায় দিয়ে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করতেই পারেন। এবং সেটা অবশ্য-ই তার চোখের ডাক্তারকে দেখিয়ে। এই পাওয়ার কন্টাক্ট লেন্সগুলো একদম ট্রান্সপারেন্ট হতে পারে আবার কালারফুল-ও হতে পারে।

ফ্যাশনের অনুষঙ্গ: আজ হয়ত একটা দাওয়াত আছে। একটা সুন্দর জামা পরবেন, একটু সাজবেন আর যদি অন্যদের থেকে নিজেকে একটু আলাদা দেখাতে চান তখন আপনি বেছে নিতে পারেন কালারড কন্টাক্ট লেন্স। নানান রকম কালারের কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার হয়ে থাকে আজকাল আর সেগুলো খুব সহজে সুলভে পাওয়া যায় দেখে উঠতি বয়েসের মেয়ে থেকে ফ্যাশন সচেতন আন্টি পর্যন্ত সবাই দাওয়াতে বা পার্টিতে সুন্দর সুন্দর কন্টাক্ট লেন্স পরে থাকেন।

কন্টাক্ট লেন্সের নানাবিধ ব্যবহার

কন্টাক্ট লেন্সের নানাবিধ ব্যবহার

চিকিতসা ক্ষেত্রে কন্টাক্ট লেন্স: কেরাটোকোনাস নামের রোগের চিকিতসায় কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করে থাকেন চোখের ডাক্তাররা। রিজিড বা শক্ত কন্টাক্ট লেন্স এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটা বিভিন্ন মেয়াদে ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া চোখের কর্নিয়া তে যদি হাল্কা কোন আঘাতে ছিলে যায় সে ক্ষেত্রে ব্যান্ডেজ কন্টাক্ট লেন্স নামের একটা কন্টাক্ট লেন্স নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন ডাক্তার।

আরো পড়ুন:  কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা রোগ: রোগের লক্ষণ, করণীয় ও পরিত্রাণের উপায়

কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারে সাবধানতা

কন্টাক্ট লেন্স যেমন খুব উপকারী তেমনি কিছু কিছু সাবধানতা অবলম্বন করাটা জরুরী।

  • প্রতিটি কন্টাক্ট লেন্সের একটা নির্দিষ্ট এক্সপায়েরি ডেট আছে। সেটা ৩ মাস-৬ মাস-১ বছর হতে পারে। কেনার আগে এক্সপায়েরি ডেট আগে দেখে নিবেন। এক্সপায়েরি ডেট এর পর কোন ক্রমেই সেই কন্টাক্ট লেন্স আর ব্যবহার করা যাবে না।
  • কন্টাক্ট লেন্সের সাথে একটা সল্যুশন এর বোতল দেয়া হয় বা অবশ্যই কিনে নিবেন। কন্টাক্ট লেন্স পরার আগে এবং খুলে রাখার সময় এই সল্যুশন দিয়ে ভালো করে  লেন্সটি পরিষ্কার করে নিতে হবে। লেন্স সংরক্ষণের যে বাক্সটি দেয়া হয় সাথে তার মধ্যে প্রত্যেকবার নতুন সল্যুশন নিয়ে নিতে হয়।
  • কন্টাক্ট লেন্স পরার পর যদি চোখে জ্বালা করে, চোখ লাল হয়ে যায় অথবা পানি পরতে থাকে তাহলে সাথে সাথে সেই কন্টাক্ট লেন্সটি খুলে ফেলে দিতে হবে এবং একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। নতুবা চোখের কর্নিয়ার সমূহ ক্ষতি হতে পারে।
  • পাওয়ারের কন্টাক্ট লেন্সের ক্ষেত্রে যদি দুই চোখে দুই রকম পাওয়ার হয়ে থাকে তাহলে খুলে রাখার সময় ঠিক বক্সে রাখতে হবে নতুবা দেখতে সমস্যা হবে।
  • সাধারণত একেক লেন্স একেক রকম কোয়ালিটির হয়ে থাকে। দামের তারতম্যের সাথে সাথে এসব কন্টাক্ট লেন্সের কোয়ালিটি আলাদা আলাদা ধরণের হবে। দামের দিকে খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজের চোখের ক্ষত করে এমন কোন স্বস্তা মানের পণ্য ব্যবহার করা যাবে না।

যুগের সাথে সাথে আর কত কিছুর মত কন্টাক্ট লেন্সের-ও বিবর্তন ঘটছে। আজকাল বিজ্ঞানীরা এমন কন্টাক্ট লেন্স আবিষ্কার করেছেন যা চোখে পরে থাকলে নিয়মিত আপনার চোখের প্রেশার মনিটর করতে পারবে। হয়ত সেদিন বেশি দূরে না যখন আমরা মিশন ইম্পসিবল এর মত সায়েন্স ফিকশন মুভিতে ব্যবহৃত ক্যামেরা কন্টাক্ট লেন্সের মাধ্যমে অনায়েসে ছবি তুলতে পারবো।

ডাঃ ফাহিম হায়দার খান
এমবিবিএস (ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)
মেডিক্যাল অফিসার, বাংলাদেশ আই হসপিটাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *