টপ ৫: চিনির বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক উপাদান

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম একটি উপাদান চিনি বা স্যুগার (Sugar)। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা অনেকেই চিনিকে শরীরের জন্য নীরব ঘাতক বলে থাকেন। আর আমরা অনেকেই অতিরিক্ত চিনি বা চিনিজাতীয় খাবার খাবার বেশি খাওয়ার ফলে যে বিভিন্ন মারাত্মক সমস্যা হতে পারে তা সম্পর্কে অবগত নই। চিনি বা চিনিজাতীয় খাবার খাবার বেশি খেলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কের রোগ, স্থূলতাসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

বর্তমানে বাজারে চিনির বিকল্প হিসেবে অনেক ধরনের ট্যবলেট বা বিকল্প উপাদানও পাওয়া গেলেও এসব কৃত্রিম ট্যাবলেটও যে একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত, তা কিন্তু নয়। তাই এক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে মিষ্টিজাতীয় কিছু প্রাকৃতিক উপাদান। তো চলুন দেখে নেই চিনির বিকল্প হিসেবে কি কি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা যায়।

চিনির বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক উপাদান

ম্যাপল সিরাপ

ম্যাপল সিরাপ

ম্যাপল সিরাপ

চিনির বিকল্প হিসেবে বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর উপাদান হল ম্যাপল সিরাপ (Maple Syrup)। গাছের রস থেকে সরাসরি উৎপাদনের ফলে এটি ১০০% ন্যাচারাল এবং বিশুদ্ধ। এই সিরাপ খুবই ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ। এছাড়া এটি অক্সিডেটিভ ক্ষয় কমায় এবং ফ্রী র‍্যাডিকেল ক্ষয় প্রতিরোধ করে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: প্রাকৃতিক উপায়ে ছারপোকা দমন

স্টেভিয়া

স্টেভিয়া

স্টেভিয়া

চিনির বিকল্প হিসেবে সম্প্রতি আবিষ্কৃত সবচাইতে কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান হচ্ছে ‘স্টেভিয়া (Stevia)‘ নামে এক ধরনের সবুজ উদ্ভিদ। এ উদ্ভিদটি চিনির চেয়ে প্রায় ২৫০-৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি। আবার এতে কোন ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেড না থাকায় এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। ফলে ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে এটা দিয়ে তৈরি খাবার খেতে পারেন। বর্তমানে পুরো পৃথিবীজুড়ে স্টেভিয়ার নির্যাস এর ব্যবহার অত্যন্ত জনপ্রিয়।

খেজুর

খেজুর

খেজুর

খেজুরের (Dates) খাদ্য উপাদানের সিংহভাগই চিনি। ফল হিসেবে খেজুর খুবই স্বাস্থ্যকর এবং এটি ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের জন্য ক্ষতিকরও নয়। তাই চিনির বিকল্প হিসেবে খেজুরকে শুকিয়ে গুঁড়ো করে, সিরাপ বা ঘন পেস্ট তৈরি করে যে কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

এছাড়া এটি কপার, ভিটামিন বি৬, ফাইবার, লোহা, পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ একটি খাবার। তাই এটি শুধুমাত্র চিনির বিকল্প হিসেবেই নয় স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবেও খাওয়া যাবে।

নারিকেলের চিনি

নারিকেলের চিনি

নারিকেলের চিনি

চিনির বিকল্প হিসেবে নারিকেলের চিনি (Coconut Sugar) গ্রামেগঞ্জে তথা সমগ্র বিশ্বেই এখন বেশ প্রচলিত। আর এটি পরিশোধিত চিনির চাইতে বেশ স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। যদিও এটিকে সরাসরি চা কিংবা কফিতে ব্যবহার করা যায় না। তবে অন্যান্য মিষ্টি খাবারের সঙ্গে অনায়সেই ব্যবহার করা যায়।

নারিকেলের এই চিনি আরো রয়েছে জিংক, পলিফেনল, পটাসিয়াম, লোহা, ক্যালসিয়াম, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এই চিনি ডায়বেটিস রোগীরাও কম পরিমাণে খেতে পারেন।

মধু

মধু

মধু

মিষ্টির অভাব পূরণে চিনির সর্বোৎকৃষ্ট বিকল্প ধরা হয় মধুকে (Honey)। এক কাপ চা অথবা কফিতে এক চামচ সাদা চিনির চেয়ে এক চামচ মধু অনেক উপকারী। এছাড়া এতে আছে ফসফরাস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন বি৬, এনজাইম, পটাসিয়াম, জিংক, লোহা, রাইবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম নিয়াসিন ইত্যাদি উপকারী উপাদান। মধু যে কেবল স্বাস্থ্যের জন্যেই ভালো তা নয়, এটি আপনাকে ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। কিন্তু মধু না জাল দিয়ে কাঁচা মধু ব্যবহার করাই ভালো।

আরো আছে: কিশমিশ, বিভিন্ন ফলের রস, আখের গুড় ইত্যাদি।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *