টপ ৫: সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার

শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও সুস্থ থাকতে হলে ভিটামিন ই এর ভূমিকা অপরিসীম। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। এটি লিভার, যকৃত, রক্তনালী এবং অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্নায়ু ও মাংসপেশীর কার্যক্ষমতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে। এছাড়া ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা ও চুল পড়া রোধেও ভিটামিন ই খুব কার্যকরী। তাই প্রতিদিন আমাদের ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিৎ। তো চলুন জেনে নেই সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার গুলো সম্পর্কে:

সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার

আট প্রকার ভিটামিন ই পাওয়া গেলেও গবেষকরা বিশ্বাস করেন, কেবলমাত্র আলফা-টোকোফেরল টাইপের ভিটামিন ই তেই মানব পুষ্টির চাহিদা মিটানো যায়। তাদের মতে প্রতিদিন একজন মানুষের ভিটামিন ই প্রয়োজন ১৫ মিলিগ্রাম [সোর্স]। আর বিভিন্ন বাদাম, বীজ এবং কিছু তেল ভিটামিন ই তে পরিপূর্ণ। তাই এসব খাবার খেলেই মানব শরীরে দৈনিক ভিটামিন ই এর চাহিদা মিটানো সম্ভব।

সূর্যমুখী বীজ

সূর্যমুখী বীজ
সূর্যমুখী বীজ

ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে সূর্যমুখীর বীজ অন্যতম। এই বীজ থেকে তৈরি করা যায় সূর্যমুখীর তেল যা বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়। সূর্যমুখীর তেলে কোনো কোলেস্টেরল নেই। তাই রক্তচাপ ও হৃদরোগীরাও অনায়াসে তা খেতে পারেন। প্রতি ১০০ গ্রাম সূর্যমুখী বীজে প্রায় ৩৫.১৭ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন ই রয়েছে। যা একজন মানুষের দৈনিক ভিটামিন ই চাহিদার ২৩৪% [সোর্স]।

আমন্ড বাদাম

আমন্ড বাদাম
আমন্ড বাদাম

খাবার হিসেবে আমন্ড বাদাম দারুন মুখরোচক এবং জনপ্রিয়। আর এতে ভিটামিন ই এর পরিমাণও বেশি। সাধারণত মিষ্টি, ক্ষীর, পায়েস, সন্দেশ, হালুয়াসহ অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরিতে অনুষঙ্গিক উপকরণ হিসেবে আমন্ড বাদাম ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এর দুধ ও মাখনও ভিটামিন ই এর ভালো উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম আমন্ড বাদামে প্রায় ২৫.৬ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন ই রয়েছে। যা একজন মানুষের দৈনিক ভিটামিন ই চাহিদার ১৭১% [সোর্স]।

চিনাবাদাম

চিনাবাদাম
চিনাবাদাম

চিনাবাদাম খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ বোধহয় খুব কমই আছেন! পার্কে গেলে বা বেড়াতে বের হলে এক ঠোঙা চিনাবাদাম হাতে উঠবেই সবার। পুষ্টিগুণেও ভরপুর এই চিনাবাদাম। প্রতিদিন ৩০ গ্রাম চিনাবাদাম ওজন কমায়, হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। আর চিনাবাদাম ভিটামিন ই এরও দারুন একটি উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম চিনাবাদামে প্রায় ৬.৬ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন ই রয়েছে। যা একজন মানুষের দৈনিক ভিটামিন ই চাহিদার ৪৪% [সোর্স]। আমন্ডের এর মত চিনাবাদামও মিষ্টিজাতীয় খাবারসহ নানা রকমের খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া চিনাবাদামের মাখনও বেশ উপকারী।

পেস্তা বাদাম

পেস্তা বাদাম
পেস্তা বাদাম

বাদামের মধ্যে পেস্তা বাদামই সবচেয়ে মজাদার এবং সুস্বাদু। আমন্ড এবং চিনাবাদামের মত সাধারণত এটি মিষ্টি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরিতে এই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে অন্যান্য পুষ্টি উপাদনের সাথে সাথে ভিটামিন ই ও রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পেস্তা বাদামে প্রায় ২.৩ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন ই রয়েছে। যা একজন মানুষের দৈনিক ভিটামিন ই চাহিদার ১৫% [সোর্স]।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডো

আমেরিকা এবং অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে অ্যাভোকাডো খুব জনপ্রিয় একটি ফল। সবুজ রঙের এই ফলটি মাখনের মত কোমল মসৃণ এবং অল্প মিষ্টিযুক্ত। আর দেখতে অনেকটা পেয়ারা বা নাসপতির মত (তবে কিছুটা ছোট)। বহুমুখী গুণের অধিকারী এই অ্যাভোকাডো ফলে প্রচুর মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। এছাড়া এটি ভিটামিন ই এরও একটি ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম অ্যাভোকাডো তে প্রায় ২.০৭ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন ই রয়েছে। যা একজন মানুষের দৈনিক ভিটামিন ই চাহিদার ১৪% [সোর্স]।

এছাড়া গমের এক টেবিল চামচ তেলে ২০.৩২ মিলিগ্রাম, কুসুম ফুলের এক টেবিল চামচ তেলে ৪.৬৪ মিলিগ্রাম, এক টেবিল চামচ রাইস ব্রান অয়েলে ৪.৩৯ মিলিগ্রাম, আঙ্গুরের এক টেবিল চামচ তেলে ৩.৯২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই পাওয়া যায়।



error: